ঢাকা, ০৫ জুন ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): দেশে সুশাসনের অভাবের ফলে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার ঈদের নামাজ পড়ে বেলা ১১টার দিকে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে গিয়ে ফুল দেন ফখরুল। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, ‘ঘরমুখী মানুষের আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত আমরা খবর পেয়েছি সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকেই নিহত হয়েছেন। অনেকেই যানবাহনের সমস্যার কারণে বাড়িতে পৌঁছাতে পারেননি, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদ করতে পারেননি।’
ফখরুল বলেন, ‘উৎসবের এই দিনেও মানুষের মনে আনন্দ নেই। আমি মনে করি, দেশে সুশাসন না থাকলে যা হয়, তাই হয়েছে। তারা ৮টা-সাড়ে ৮টার মধ্যে বললেন যে, চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদের তারিখও বলে দিলেন বৃহস্পতিবার। আবার রাত সাড়ে ১০টা-১১টার দিকে আবার সেটা সংশোধন করলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিজেই সংশোধন করলেন। কোথা থেকে তারা খবর পেয়েছেন, সে জন্য আজকে আবার ঈদ হবে।
ঈদের একটা প্রস্তুতি আছে, নামাজ পড়ার জন্য তো একটা প্রস্তুতি দরকার। জনগণের কষ্টের বিষয়গুলো কখনোই এই সরকার সঠিকভাবে উপলব্ধি করেনি, উপলব্ধি করার প্রয়োজনও মনে করে না। যে কারণে জনগণ কষ্ট পায়, ভোগান্তি হয়, সেই ধরনের কাজ তারা করে। আমি মনে করি, দেশে সুশাসন না থাকার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘এই দিনে সারাদেশের মানুষের আনন্দ করার কথা। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরে কোনো আনন্দ নেই, তাদের কোনো উৎসব নেই। কারণ হাজার হাজার গণতান্ত্রিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তারা ঘরে থাকতে পারে না। এই ঈদের দিনেও তারা ঘরে যেতে পারে না। কৃষকদের ঘরে কোনো আনন্দ নেই। আমরা জানি যে, এবার কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারেনি। ফলে তাদের ঘরে কোনো আনন্দ নেই।’
দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি থাকার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা আরও হৃদয় বিদারক এজন্য যে, আমাদের নেত্রী কারা অন্তরীণ। তার সঙ্গে আমরা দেখাটা পর্যন্ত করতে পারছি না। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে ঈদুল ফিতরের দিনটি আমরা পালন করছি।’
প্রতি বছর খালেদা জিয়া ঈদের দিন জিয়ার কবরে ফুল দিতেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এই কর্মসূচিটি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবারের ঈদ স্বস্তির বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের কথাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিই না। এজন্য দিই না যে, তারা সব সময়ই অসত্য কথা বলে এবং জনগণকে প্রতারণা করে। যেটা তারা বলে সেটা করে না বা তারা করতে পারে না, কিন্তু জনগণকে একটা বিভ্রান্তির মধ্যে রেখে দেয়।’
ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েও বিএনপি নেতারা তা পাননি বলে জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছিলাম, অনুমতি দেয়নি। পরিবারের সাতজনকে মাত্র দিয়েছে। আইন যেটা আছে, জেল কোডে যেটা লেখা আছে, ঈদের উৎসবের দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, স্বজন যারা আছেন, তাদের দেখা করতে দিতে হবে। সেখানে তারা অবশ্যই তারা বিধি লঙ্ঘন করেছে। তারা একেবারে লিমিটেড করে দিয়েছে, পরিবারের সাতজন ছাড়া কেউ দেখা করতে পারবে না।’
বিএনপির ভাইস-চেয়ারপারসন এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, রফিক শিকদার, শাহ নেছারুল হক, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আবুল কালাম আজাদ, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার এসময় উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply